কবিতা .... কবিতা .... কবিতা'


কবি ও কবিতা
আবুল হাসান আল মাহমুদ আহসান হাবীব উৎপলকুমার বসু কাজী নজরুল ইসলাম কালিদাস ক্লাসিক কবিতা জসীম উদ্দিন জীবনানন্দ দাশ জয় গোস্বামী তসলিমা নাসরিন তারাপদ রায় নরেন্দ্র দেব নির্মলেন্দু গুণ নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী পাবলো নেরুদা পুর্ণেন্দু পত্রী ফেদেরিকো গার্থিয়া লোরকা বাংলাদেশের সংবিধান বিনয় মজুমদার বিষ্ণু দে বুদ্ধদেব বসু ভালবাসা নিয়ে মলয় রায়চৌধুরী মহাদেব সাহা রফিক আজাদ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ লালন ফকির শক্তি চট্টোপাধ্যায় শঙ্খ ঘোষ শহীদ কাদরী শামসুর রাহমান শার্ল বোদলেয়ার শ্রীজাত শ্রীরামকৃষ্ণ কথামৃত সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত সমর সেন সুকান্ত ভট্টাচার্য সুকুমার রায় সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সুভাষ মুখোপাধ্যায় সৈয়দ শামসুল হক হুমায়ুন আজাদ হেলাল হাফিজ

মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১০

ভালবাসার সময় তো নেই – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ

ভালবাসার সময় তো নেই – রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
ভালবাসার সময় তো নেই
ব্যস্ত ভীষন কাজে,
হাত রেখো না বুকের গাড় ভাজে।
ঘামের জলে ভিজে সাবাড়
করাল রৌদ্দুরে,
কাছএ পাই না, হৃদয়- রোদ দূরে।
কাজের মাঝে দিন কেটে যায়
কাজের কোলাহল
তৃষ্নাকে ছোয় ঘড়ায় তোলা জল।
নদী আমার বয় না পাশে
স্রোতের দেখা নেই,
আটকে রাখে গেরস্থালির লেই।
তোমার দিকে ফিরবো কখন
বন্দী আমার চোখ
পাহারা দেয় খল সামাজিক নখ।
কবিতা- সূনৃত
সূনৃত
অতিরঞ্জনকারী নই আমি, তাই চাইলেই পারিনা
দিতে এনে চাদঁ তোমার হাতে
পারিনা কুড়াতে অতল সিন্ধু তলের
মনি-মুক্তো ।ভিনগ্রহে পাড়ি জমাতেও চাই না
তোমার জন্য প্যনডোরায় জলটুঙ্গি তাই এ জন্মে নয়।
নই আর্শিবাদপুষ্ট বিশুদ্ধ চিত্তের যীশু
না কোন জাঁহাবাজ বাজিকর; পারি যখন তখন বাকশূন্য
করতে ভেলকি দিয়ে।
মেনেলাউসের মত রণসজ্জায় সেজে হেলেন উদ্ধারেও অক্ষম
চাইলেই পারি না দিতে উপহার স্বর্ণবৃষ্টি।
বিশুদ্ধ কবি জীবনানন্দের মত উপমায়
পারিনা তোমায় করতে বাঙময়,
যদি ভালবাস দিতে পারি তোমারও অধিক,
অষ্টপ্রহর পুষ্পমালা, কিছু সুর কিছু পঙক্তিমালা।
দিনশেষে পেশি নিংড়ানো স্বেদবিন্দু
অভুক্ত থেকে তোমার মুখে অন্ন,
নিশিথে আকণ্ঠ তৃপ্ত ভালবাসা
পারি শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে তুমিহীন
যে কোন নারী সম্ভোগের কামনা।
দিতে পারি প্রাতস্বিক স্বপ্ন পালকের ডানা,
তোমার সুখের তরে পারি সাবাড় করতে
অপ্রত্যাবর্তনীয় এ জীবন।
স্টকহোম, ২৫ আষাঢ়,১৪১৭

ভালবাসার কবিতা

যাযাবর ভালবাসা – আহমেদ সালাহউদ্দিন সুপ্রিয়

এই সেই রাস্তা,
যেখানে হেঁটে হেঁটে বহুদূরে
হারিয়েছে কনো এক যুবক মাতাল।
বুকে তার ছিলনা কোন প্রেমের বাগান,
আথবা চায়নি সে আধখানা চাঁদ আর কুমারী রাত,
সিনায় সিনায়, রক্তে রক্তে উষ্ণ পরশ।
চেয়েছিল ছোট একচালা ঘর, এক মুঠো ভাত,
চেয়েছিল রোদেলা বিকেল আর আধখানা সিগেরেট,
একটু স্বাধীনতা, নিজেকে নিজের মতো সাজাবার।
যখন আকাশে নামে পূর্নিমা রাত,
পলকে পলকে যায় নির্ঘুম প্রহর,
স্মৃতির পলিতে জমে শিশির হাজার।
বলে দিয়ে যায় তারে,
হলো তো অনেক, কতো আর আবিচার নিজেরই ওপর,
পথ থাকে পথের পরে, তুমি পথচারি।
যতদুরে চলে যাও, নিয়ে যাবে সবই।
বদলাবে পৃথিবী, মানু্ষ, প্রতিদিনই।
বদলাবে কবে তুমি,
আঁকবে কবে ভোর, সোনালী সোপান।
চিৎকার দিয়ে বলে যুবক,
কবিতার কসম, ধ্বংস করে সবকিছু,
গড়ে নিব আবার নিজেরই আবাস,
যতই থাকিনা কেন বহুদুর,
একদিনতো শেষ হবেই দুর পরবাস।

প্রথম প্রেমিকা – তপন বন্দ্যোপাধ্যায়

লাইব্রেরি থেকে ফিরছি তখন মুঠোয় জীবনানন্দ,
বুঁদ হয়ে আছি পয়ারের ঝোঁকে নির্জন চারপাশ,
বিকেল বেলায় গোধূলির ছোঁয়া লেগে চারদিক রক্তিম,
ঠিক সে সময় চোখে পড়ে গেল উদাসীন সেই কিশোরী
দাঁড়িয়ে রয়েছে, মুঠোভরা তার কাঁঠালিচাঁপার পাপড়ি,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, সেদিনই প্রথম চোখাচোখি;
মেয়েটিকে যেন কোথায় দেখেছি, অথবা কোথাও দেখিনি,
ফর্সা কপালে ছড়িয়ে ছিল যে চূর্ণচুলের আঁকিবুঁকি
চোখদুটি যেন ভরাট সায়র দু-ভুরু বাঁকানো ধনুকে
বিস্ময় কিছু থম্ হয়ে আছে, চিবুকে লাল্চে রশ্মি,
ফ্রকের বাইরে গমরঙা বাহু নিটোল লতিয়ে রয়েছে
সে ছিল আমর প্রথম প্রেমিকা, সেদিনই প্রথম পরিচয়;
পরিচয় ক্রমে রঙ ধরে ওঠে, সে রঙ ক্রমেই গাঢ় হয়,
কলেজ ফেরার পথে দেখি রোজ দাঁড়িয়ে রয়েছে একলা
কাঁঠালিচাঁপার পাপড়িও ঠিক রয়েছে দু-মুঠো ভর্তি
চুপিচুপি দিত কখন পকেটে, সারারাত তার সুবাসে
ঘুম ছুটে যেত, চোখ বুজলেই তার মুখখানা টলোমলো,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, ভালবাসা সে-ই শেখাল;
তার ও শরীরে অক্ষরমালা, অক্ষর গেঁথে শব্দ,
শব্দে শব্দ গেঁথে গেঁথে তার শরীরে পংক্তি জেগেছে,
শব্দব্রহ্মে হীরকদ্যুতিটি আমাকে কাঁপালো অবিরাম,
কখনো পয়ারে হেসে কথা বলে, কখনো মাত্রাবৃত্তে
চলনে-বলনে নিপুণ ছন্দ, কখনো গদ্যে উদাসীন,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, প্রথম প্রেরণা সে-ই দেয়;
তার কাছে বাঁধা ছিল যে আমার কিশোরবেলার দিনগুলি,
ঠোঁটের দুকোণে মিষ্টি হাসিটি ঝড় তুলে যেত সহসা,
কখনো দুচোখে শ্রাবণ ঘনাত, কখনো মধুর ফাল্গুন
কাঁঠালিচাঁপায় মাখামাখি হয়ে এহেন কত না দিনক্ষণ
কেটে গেছে সুখে, আবেগ-উল্লাসে সেই সিরসির দিনগুলো,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, প্রথম স্পর্শ সে-ই দেয়;
দুচোখে নিবিড় চাউনিটি ছিল, দুটি সুখী সাদা পায়রা,
তার ও শরীর মন্থন কর এস্বর-ব্যঞ্জনবর্ণ,
সাদা পায়রার ডানাটি আমাকে টেনে নিয়ে গেল কদ্দূর
ক্রমশ যাচ্ছি লোকালয় ফেলে, পাহাড়, সাগর ডিঙিয়ে
সে এক নতুন অনুভূতি এল, সে এক নতুন বিশ্ব,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, অন্য জন্ম সে-ই দেয়;
তার বাবা হল বদলি হঠাত্, মালদা কিংবা হুগলি,
সে-ও চলে গেল, কাঁঠালিচাঁপাকে করেছি দুহাতে টুকরো,
দু’চোখে উথালপাথাল অশ্রু, বৈশাখী এল ঝড় হয়ে
আলুথালু করে দিয়ে গেল সেই দ্বিধাথরোথরো কৈশোর
সেই শেষ দেখা, তারপরে কত দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, প্রথম দূ:খ সে-ই দেয়;
চলে যাওয়া তার যাওয়া নয় যেন, সে এল আবার ফিরিয়া
ঘুমে জাগরণে কুরে কুরে খায়, পোড়ায়, ডোবায় প্লাবনে,
ধ্বংস করেছে পুরনো আমাকে, ধ্বংসের পর সৃষ্টি,
ফিনিক্স পাখিটি জেগে ওঠে, দেখে সামনে পৃথিবী উর্বর,
কেউ যেন তাকে উস্কে যাচ্ছে অন্তরীক্ষে ইশারায়,
সে ছিল আমার প্রথম প্রেমিকা, প্রথম কবিতা সে-ই দেয়।

আমাদের কবিতা

অজস্র উদাহরণ আছে উড়ো ভাবনার, সহস্র রাত-জাগা তারাদের মুখ
তবু আলোর গল্প লেখা হয় আধাঁরের কবিতায়। বুকের শ্বেতপাথরে লেখা
হয় নাম। নিয়তির হাঁস ওড়ে জোনাকীর মত। ক্ষয় হয় চাঁদ-চাঁদ সুখ।
আকাশের মেঘ আঁকে বিজলীর নিপুণ প্রেম-রেখা।
মন কখনও চেয়ে ওঠে গানের অধিকার। সুর তালে বেজে ওঠে
ফুলের সম্ভার। সুবাস কখনো যেন রোদ-তাপা মরুভূমি ছুঁয়ে যায়।
কখনও-বা বৃষ্টি আসে পাতার গন্ধ কাঁটা হয়ে ফোটে।
বাঁধন-ছেঁড়া নদীর স্রোতে সুখ ভাসে নিরালা শেওলায়।
সাঁকো থেকে ঝুঁকে দেখি জেগে আছো কিনা। বুঝে দেখি রেলিংয়ের মর্মকথা
রেখাচিত্রে সহসা আনমনা। দূরের রেললাইনে কু-ঝিক-ঝিক
শব্দ তুলে চলে যায় ট্রেন। প্রেমে আছে চিরদিনের অমরতা
জানি। আজীবন তাই ভালবেসে যাব তোমার চোখের ঝিকমিক।
অজস্র উদাহরণ আছে উড়ো ভাবনার, সহস্র রাত-জাগা তারাদের মুখ
তবু আলোর গল্প লেখা হয় আধাঁরের কবিতায়। বুকের শ্বেতপাথরে লেখা
হয় নাম। নিয়তির হাঁস ওড়ে জোনাকীর মত। ক্ষয় হয় চাঁদ-চাঁদ সুখ।
আকাশের মেঘ আঁকে বিজলীর নিপুণ প্রেম-রেখা।
মন কখনও চেয়ে ওঠে গানের অধিকার। সুর তালে বেজে ওঠে
ফুলের সম্ভার। সুবাস কখনো যেন রোদ-তাপা মরুভূমি ছুঁয়ে যায়।
কখনও-বা বৃষ্টি আসে পাতার গন্ধ কাঁটা হয়ে ফোটে।
বাঁধন-ছেঁড়া নদীর স্রোতে সুখ ভাসে নিরালা শেওলায়।
সাঁকো থেকে ঝুঁকে দেখি জেগে আছো কিনা। বুঝে দেখি রেলিংয়ের মর্মকথা
রেখাচিত্রে সহসা আনমনা। দূরের রেললাইনে কু-ঝিক-ঝিক
শব্দ তুলে চলে যায় ট্রেন। প্রেমে আছে চিরদিনের অমরতা
জানি। আজীবন তাই ভালবেসে যাব তোমার চোখের ঝিকমিক।